ভ্যাক্সিন ফাঁদ

করোনার ভ্যাক্সিনগুলো কি আসলেই দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দিতে পারবে? বিশেষ করে UK ভ্যারিয়েন্ট এবং সম্প্রতি যুক্ত হওয়া সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে? ব্যাক্তি-পর্যায়ে নিরাপত্তার পাশাপাশি আমাদের মত গরীব দেশের বাজেট থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা খরচ করার আগে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারনা থাকা জরূরী। কিন্তু, এ ব্যাপারে সিরিয়াস একাডেমিক ডিবেট হওয়ার কথা থাকলেও ভ্যাক্সিন বিশেষজ্ঞরা মুখে এক প্রকার কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বিষয়টি যথেষ্ট শঙ্কিত করার মত।

করোনাভাইরাস দ্রুত মিউটেশন করে থাকে একথা মনেহয় আমরা সবাই জানি। এই মিউটেশন তার স্পাইক প্রোটিন থেকে শুরু করে কমবেশি সব জিনেই হয়ে থাকে। তাই, ভাইরাল এন্টিজেনগুলো পরিবর্তন হয়ে গেলে ন্যাচারাল ইনফেকশন বা ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হয়ে থাকা এন্টিবডিগুলোর এফিসিয়েন্সি কমে যায়, বা একেবারেই লোপ পায়। এক্ষেত্রে চিন্তার উদ্রেক করার মত একটা ইন্টারেস্টিং আস্পেক্ট আছে।

গবেষকেরা গত সেপ্টেম্বর-অক্টবার থেকে হতাশ হয়ে লক্ষ্য করছিলেন যে SARS-CoV-2 এর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া এন্টিবডি শরীরে তার নিউট্রালাইজিং কনসেন্ট্রেশন ধরে রাখতে পারেনা, যার কারনে দ্বিতীয়বার ইনফ্যাক্টেড হওয়ার ভয় তৈরি হয়। আমার মনেহয় এখানেই খুব সূক্ষ একটা ক্লু আছে, অবশ্য যদি আমরা বুঝতে চাই।

আল্লাহর কুদরত আর ইভোলিউশনারি প্রিন্সিপাল, যেভাবেই আমরা ব্যাখ্যা করি না কেন, আমাদের শরীর করোনার কোন একটি ভ্যারাইটির বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি করার পরই কোন না কোনভাবে জেনে যায় যে, এই ব্যাটা বেশীদিন টিকবেনা। তাই, স্বল্প সময়ের জন্য এর বিরুদ্ধে এন্টিবডি বলবত রেখে পরে আস্তে আস্তে তা কমিয়ে ফেলে। কিন্তু এ থেকে কী বোঝা গেল?

কিছুদিন আগেই করোনার UK ভ্যারিয়েন্টের কথা শুনলাম যা কিনা ৭০% দ্রুত ছড়ায় এবং তার স্পাইক প্রোটিনে সিগনিফিক্যান্ট কিছু মিউটেশন আছে। এবার তার চেয়েও বড় সংবাদ, সাউথ আফ্রিকায় এমন এক ভ্যারিয়েন্টের উদ্ভব ঘটেছে যা UK ভ্যারিয়েন্টের মত দ্রুত তো ছড়ায়ই, তার উপর এর স্পাইক প্রোটিনে নতুন দুইটি মিউটেশন যুক্ত হয়েছে। গ্লোবালাইজেশনের যুগে এই ভ্যারিয়েন্টগুলো পৃথিবী-ব্যাপী ছড়িয়ে পড়া শুধু সময়ের ব্যাপার বলেই ধরে নেয়া যায়। এটা নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। কিন্তু স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন নিয়ে এত মাথাব্যাথা কেন?
কারন বাজারে আসতে যাওয়া সব বড় বড় ভ্যাক্সিনেরই টার্গেট হচ্ছে স্পাইক প্রোটিন। এবার এন্টিবডিকে চাবি আর এই স্পাইক প্রোটিনকে তালার সাথে একটু তুলনা করুন। চিন্তা করূন, একটি তালা যেমন শুধু একটি চাবি দিয়েই খুলবে, ঠিক তেমনি, একটি স্পাইক প্রোটিন তার জন্য তৈরি করা এন্টিবডি দিয়েই নিউট্রালাইজড হবে। এখন যদি তালা বদলে যায়?

এখন এই চাবি বানাতে আপনার যতজন বিজ্ঞানীই কাজ করুক, যত বিলিয়ন ডলারই খরচ হোক, তালা কিংবা তালার স্ট্রাকচার বদলে গেলে আগের চাবি অকার্যকর হয়ে যাওয়াই কি স্বাভাবিক না? ঠিক তাই।
এখন জিওপলিটিক্স আর জনস্বাস্থ্যের জন্য বিষয়টি সেনসিটিভ হওয়ার সাথে সাথে এখানে শত শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা জড়িত বিধায়, এ নিয়ে মুখ খোলা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু আমাদের মত গরীবদের পকেট থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা যেন কিছু মানুষের খামখেয়ালীর কারনে অপাত্রে না যায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকা জরূরী।
বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভ্যাক্সিন বিশেষজ্ঞরা মুখু খুলবেন আর পলিসিমেকাররা ভেবে দেখবেন এই আশা রাখি। সবাইকে ধন্যবাদ।

Leave A Reply